মিজানুর রহমান ১৮ আগষ্ট ২০২৫ ০৩:২০ পি.এম
ছবি: সংগৃহীত
ভূমিকা
পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে—তা কখনোই আকস্মিকভাবে ঘটে না। প্রতিটি ঘটনার একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা, প্রক্রিয়া ও উপসংহার থাকে। মানবসভ্যতার ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় এই সূত্রেই গড়ে উঠেছে। কোনো সভ্যতার উত্থান হোক কিংবা পতন, সবই ঘটে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে। ইতিহাস নিজে নিজে সৃষ্টি হয় না; বরং মানুষের কর্মকাণ্ড, মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে রচিত হয়। আজ পৃথিবী আবারো প্রস্তুতি নিচ্ছে একটি নতুন ইতিহাসের জন্য—একটি নতুন সভ্যতার রূপান্তরের জন্য।
ইতিহাস ও সভ্যতার বিবর্তন:
মানবজাতির ইতিহাসে প্রতিটি সভ্যতারই একটি সূচনা, বিকাশ, শিখর এবং পতন রয়েছে। সভ্যতা কখনো একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায় না; বরং তার অবশিষ্ট থেকে জন্ম নেয় নতুন রূপ, নতুন নেতৃত্ব। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই ইতিহাসে আসে নতুন অধ্যায়।
ইসলামের আবির্ভাব ছিল এমনই এক ঐতিহাসিক ঘটনা, যা শুধু নতুন একটি ধর্মীয় ব্যবস্থার জন্মই দেয়নি, বরং গোটা বিশ্বে একটি ন্যায়নিষ্ঠ, মানবিক ও সুশৃঙ্খল সভ্যতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনই ছিল সেই সভ্যতার প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত।
ইসলামী সভ্যতার বর্তমান অবস্থা:
আজকের বাস্তবতায় ইসলামী সভ্যতার ধারক ও বাহকের সংখ্যা বিপুল হলেও মানসিক ও নৈতিকভাবে এর অনুসারী প্রকৃত অর্থে অল্প। কুরআন—যা ইসলামী সভ্যতার মূল চাবিকাঠি—সীমাবদ্ধ হয়ে আছে মাদ্রাসা ও মক্তবের পাঠ্যক্রমে। মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত অসংখ্য মতবাদে, যেখানে ঐক্যের পরিবর্তে বিভাজনই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
অন্য সভ্যতাগুলোর সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং আধিপত্য মুসলিম সমাজে গভীরভাবে প্রবেশ করেছে। অনেক মুসলমান অজান্তেই বা সচেতনভাবে ইসলামের মৌলিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে, অন্য সভ্যতার ধারা অনুসরণ করছে। এর ফলে প্রকৃত ইসলামী সভ্যতার অবক্ষয় ত্বরান্বিত হচ্ছে।
ইতিহাসের নিয়ম ও পুনর্জাগরণের প্রক্রিয়া:
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যখন একটি সভ্যতা পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়, তখন আল্লাহ সেই সভ্যতাকে পুনর্জীবিত করার জন্য পাঠান একজন নেতা, একজন সংস্কারক। ইসলামের ইতিহাসে সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, উমর ইবন আব্দুল আজিজ বা মুহাম্মদ বিন কাসিমের মতো ব্যক্তিত্বই সেই উদাহরণ।
আজকের পৃথিবীতে অন্যায়, দুর্নীতি, সহিংসতা ও নৈতিক অবক্ষয় চরমে। মুসলিম বিশ্বে বিভক্তি, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্বহীনতা স্পষ্ট। ঠিক এমন সময়েই ইতিহাস প্রস্তুত হচ্ছে আরেকজন মহান নেতার আগমনের জন্য—তিনি হলেন আল্লাহর প্রতিশ্রুত মহামানব ইমাম মাহদী।
ইমাম মাহদীর আগমন ও ভূমিকা:
ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হবে এমন এক সময়ে, যখন মানবজাতি শান্তি, ন্যায়বিচার ও সত্যের জন্য তীব্রভাবে আকুল থাকবে। তার আগমন হঠাৎ নয়; বরং বিশ্বব্যবস্থা ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে অন্য কোনো সমাধান আর কার্যকর হবে না।
ইমাম মাহদীর ভূমিকা হবে:
মুসলিম উম্মাহকে বিভক্তি থেকে ঐক্যের পথে ফিরিয়ে আনা।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রকৃত ইসলামী সভ্যতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
শাসনব্যবস্থা, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।
পৃথিবীতে এমন ন্যায়নিষ্ঠ শাসন কায়েম করা, যা আগে কেউ প্রত্যক্ষ করেনি।
উপসংহার:
পৃথিবী আজ এক গভীর সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। সভ্যতার পতন ও নৈতিক অবক্ষয়ের এই প্রেক্ষাপট ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনার। ইতিহাস আবার পুনরায় রচিত হতে চলেছে, আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে থাকবেন ইমাম মাহদী।
ওমরাহ পালনে ১০ নতুন নিয়ম: যে ভিসায় নিষিদ্ধ
মহাঅষ্টমী আজ, হবে কুমারী পূজা
হজ প্যাকেজ ঘোষণা রবিবার: এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩টি প্যাকেজ, কমছে খরচ
আজ শুভ মহালয়া
ঋণের ভারে আত্মহত্যা, ঋণ করেই চল্লিশা পালন: যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
স্ত্রী চাহিদা পূরণ করতে না পারলে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা যাবে?
পৃথিবী প্রস্তুত হচ্ছে ইমাম মাহদীর জন্য
আজ থেকে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট শুরু
নামের প্রথমে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ উপাধি নেওয়া যাবে কি
‘জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখতে সেক্রিফাইসিং মেন্টালিটি জরুরি’
মিসওয়াক কখন করবেন?
তাওয়াফের সময় যে দোয়া পড়বেন
নবীদের সুন্নত যে চারটি কাজ
হজরত ওমরের কথার পর যেসব আয়াত নাজিল হয়েছিল
বায়তুল মুকাদ্দাসের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন যে নবীর মা
পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য যেসব আমল করতে পারেন
জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের দোয়া
যে ধরনের অক্ষমতায় রোজার পরিবর্তে ফিদইয়া দেওয়া যায়
রোজা রেখে মিথ্যা বললে যে ক্ষতি হবে
রমজানে দুর্ব্যবহার মুক্ত থাকতে হাদিসে যা বলা হয়েছে
রমজানের ফজিলত ও বরকত নিয়ে হাদিসে যা বলা হয়েছে
মৃত্যুর পর শিশুরা কি জান্নাতে যায়?
সারাদিন শয়তান থেকে নিরাপদ থাকার দোয়া
যে নফল নামাজগুলো আল্লাহর প্রিয়
তিন তাসবিহ কী? পড়লে যে ফজিলত
জান্নাত ও জাহান্নাম দেখার পর মানুষের যে অনুভূতি হবে
হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় আরও বাড়লো
শাম অঞ্চলে সংঘটিত মুতার যুদ্ধে যে সাহাবিরা শহিদ হয়েছেন
শাম অঞ্চলে রাসূল (সা.) এর যুগে যে দুই যুদ্ধ হয়েছিল
কাজা নামাজ পড়ার সময় কিরাত জোরে পড়া যাবে?