বুধবার ১০ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
শিক্ষা

বেসরকারি স্কুলে ইচ্ছেমতো ভর্তি ফি ও বেতন আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদন ১১ অক্টোবার ২০২৪ ০৭:০৯ এ.এম

বেসরকারি স্কুলে ইচ্ছেমতো ভর্তি ফি ও বেতন আদায় ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীসহ সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভর্তি ফি, বেতন ও অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম টিউশন ফি নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। শিক্ষার্থীদের ওপর অনেকটা জোর করেই এই ফি চাপিয়ে দেওয়া হয়। অন্যান্য ফির ক্ষেত্রেও কোনো সামঞ্জস্য নেই। যে প্রতিষ্ঠান যেভাবে পারছে ফি আদায় করছে। এতে চাপ পড়ে অভিভাবকদের ওপর।

অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নির্দেশনা বা সতর্কীকরণ নোটিশ দিলেও কোনো প্রতিষ্ঠানই তা আমলে নিচ্ছে না। তাই টিউশন ফির লাগাম টানতে এবার নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, মহানগর, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি ও টিউশন ফি নির্ধারণ হবে অঞ্চলভেদে। মাসিক বেতন, ভর্তি, সেশন, বোর্ড পরীক্ষার ফরম পূরণ, স্কাউট, মিলাদসহ ২৮টির মতো কমন ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে এ নীতিমালা ঘোষণা করা হতে পারে। এদিকে বেসরকারি বিদ্যালয়ে উন্নীত ক্লাসে পুনঃ ভর্তি ফি আদায় বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

জানা গেছে, খসড়া নতুন নীতিমালা অনুযায়ী যেসব জেলার অবস্থান ভালো, মানুষজন উচ্চবিত্ত সেসব অঞ্চলের স্কুলগুলোর টিউশন ফি তুলনামূলক বেশি। অর্থাৎ ঢাকা, সিলেট, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বগুড়া অঞ্চলের স্কুলের মাসিক বেতন তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে যেসব এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে সেসব এলাকার স্কুলের ফি কম নির্ধারণ করা হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় বলা আছে, মফস্সল এলাকার বা পৌর উপজেলার বাইরের উপজেলাগুলোতে এমপিভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীপ্রতি টিউশন ফি বা মাসিক বেতন টিফিনসহ নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। বছরের হিসাবে এ ফি দাঁড়ায় ১ হাজার ২০০ টাকা। বেতনের বাইরে এমপিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট বার্ষিক ফি ১ হাজার ৩৬০ টাকা হলেও নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ফি ১ হাজার ৮১৫ টাকা। আর ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে এমপিও ও নন-এমপিও উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্য অভ্যন্তরীণ তিন ঘণ্টার প্রতি বিষয়ের পরীক্ষা বাবদ ৪০ টাকা ও তিন ঘণ্টার কম সময়ের জন্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কলেজ পর্যায়ের (একাদশ, দ্বাদশ ও স্নাতক পাশ) এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মফস্সল এলাকায় বার্ষিক ফি হবে ১ হাজার ৬৪৫ টাকা, আর নন- এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীপ্রতি গুনতে হবে ১ হাজার ৯৯০ টাকা। এমপিও ও নন-এমপিও উভয় স্তরের কলেজে অভ্যন্তরীণ তিন ঘণ্টার প্রতি বিষয়ের পরীক্ষা বাবদ ৫০ টাকা ও চার ঘণ্টার পরীক্ষার জন্য ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মহানগর ও জেলা কমিটির নির্ধারণ করা মাসিক বেতন-টিউশন ফি সংক্রান্ত সংক্ষিপ্তসার প্রতিবেদন কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। টিউশন ফি নির্ধারণে এলাকাভিত্তিক কমিটি থাকবে। জেলা পর্যায়ের কমিটির সভাপতি থাকবেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড মনোনীত সদস্য থাকবেন আরো পাঁচ জন। এর মধ্যে রয়েছেন-মফস্সল পর্যায়ের এমপিওভুক্ত কলেজের এক জন অধ্যক্ষ, পৌরসভা পর্যায়ের নন-এমপিও কলেজের এক জন অধ্যক্ষ, মফস্সল পর্যায়ের এমপিওভুক্ত স্কুলের এক জন প্রধান শিক্ষক, মফস্সল পর্যায়ের নন-এমপিওভুক্ত স্কুলের এক জন প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। দরিদ্র-অসহায় শিক্ষার্থীদের ফুল ফ্রি বা হাফ ফ্রি বিষয়টি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কমিটি দেখবে।

মাসিক বেতন-টিউশন ফি নির্ধারিত খাতের ব্যাংকে হিসাব খুলে রাখতে হবে। কোনো একক খাতে বার্ষিক আদায় ১০ লাখ টাকার অধিক হলে এ খাতের জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। আদায় করা অর্থ খাতভিত্তিক ব্যয় করতে হবে। এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যয় করা যাবে না। সব আদায় ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। টাকা আদায় ও অর্থ ব্যয় নিরীক্ষাযোগ্য হবে। হিসাব সংরক্ষণের সাধারণ নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণ করে পৃথক খাতভিত্তিক হিসাব রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতি পঞ্জিকাবর্ষে দুই বার (জুন ও ডিসেম্বর) ক্যাশ বই ও ব্যাংক বিবরণী সমন্বয় করতে হবে। সব হিসাবপত্রের সফট কপি এবং হার্ডকপি ন্যূনতম ২০ বছর সংরক্ষণ করতে হবে। দায়িত্ব হস্তান্তরকালে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়িত্ব গ্রহণকারী শিক্ষককে লিখিতভাবে বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবেন। এছাড়া নীতিমালায় অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, টিফিন, ম্যাগাজিন, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, লাইব্রেরি, পরিচয়পত্র, নবীনবরণ, শিক্ষা সফর, উন্নয়ন ফি ইত্যাদি খাতে কত টাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আদায় করতে পারবে-এ বিষয়ও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

রোজা ও ঈদের ছুটিতে কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ

news image

স্বাধীনতার মালিক কে?(৪৭ থেকে ৭১, ৭১ থেকে ২৪)

news image

মাদকমুক্ত সমাজের স্বপ্নে তরুণরা

news image

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বণ্টনে নতুন নিয়ম

news image

শাপলা চত্বরের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে: শিক্ষা উপদেষ্টা

news image

স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের এমপিও আবেদন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

news image

ইসলামী বইমেলায় বাড়ছে পাঠকদের ভিড়

news image

পিআর নিয়ে গণভোট করা যেতে পারে: জাকসু ভিপি

news image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ‘পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত, কর্মবিরতি চলবে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের

news image

২৫ তারিখেই রাকসু নির্বাচন চান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

news image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডাকাতের গ্রাম’ থেকে মানুষের জনপদ হয়ে উঠছে: মির্জা গালিব

news image

‘জবাবদিহিতায় ব্যর্থ হলে পুনরায় ডাকসু নির্বাচন আদায় করব’

news image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং নিষিদ্ধ

news image

প্রাথমিকে ফের বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক

news image

আমির হামজাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে: ঢাবি ছাত্রদল

news image

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কবে?

news image

জাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসের কার বাড়ি কোথায়

news image

যে কারণে জাকসুতে ছাত্রদলের বিপর্যয়

news image

রোকেয়া হল থেকে একমাত্র ভোট পেলেন রাকিবুল, তাকেই বিয়ে করতে চান...

news image

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ডাকসুর প্রথম সভা

news image

বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্ট ফোরামের নতুন কমিটি গঠন

news image

জুলাইযোদ্ধা সেই ফাইয়াজের বড় ভাই জাকসুর জিএস

news image

জাকসুর ফল ঘোষণার পূর্বে হাসিনার বিচার চেয়ে স্লোগান

news image

জাকসু নির্বাচনের ফল প্রকাশ শুরু

news image

এগিয়ে এলো জাকসুর ফল ঘোষণার সময়

news image

জাকসু নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য স্নিগ্ধার পদত্যাগ

news image

শেষ হলো জাকসুর ভোট গণনা

news image

রোববার বন্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

news image

অবশেষে সন্ধ্যা সাতটায় জাকসুর ফল ঘোষণা

news image

জাকসু নির্বাচন, ১৫ হলের ভোট গণনা শেষ, একটার মধ্যে শেষ করার আশা