সোমবার ২৭ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
শিক্ষা

সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ এর উল্লম্ফন, চার কারণে কমেছে পাসের হার

নিজস্ব প্রতিবেদন ১৫ অক্টোবার ২০২৪ ০৪:৫০ পি.এম

সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ-৫ এর উল্লম্ফন, চার কারণে কমেছে পাসের হার ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ভিন্ন রকম ফল প্রকাশ করল সরকার। ছাত্রজনতার আন্দোলনের কারণে এবার অর্ধেক বিষয়ে সরাসরি পরীক্ষা হয়েছে বাকিগুলো বাতিল করে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে ফলাফল তৈরি করা হয়েছে। এতে ফলাফলে কিছুটা বৈচিত্র্য এসেছে।

যদিও করোনা মহামারি সময় অটোপাসের নজির ছিল। তবে এবার সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের কারণে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ এ প্রাপ্তিতে উল্লম্ফন ঘটেছে। যদিও যশোর ও ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের খারাপ ফল, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ের কঠিন পরীক্ষায় সার্বিক পাসের হার কমেছে।

মঙ্গলবার চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ বছর পাসের হারসহ ফলাফলে বেশি পিছিয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ ও যশোর শিক্ষা বোর্ড। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডেও খারাপ ফলাফল হয়েছে। চার শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল খারাপ হওয়ার মূল কারণ ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ফেল।

চার বোর্ডের কারণে কমেছে পাসের হার

দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার মূলত কয়েকটি কারণে গত বছরে তুলনায় পাসের হার কমেছে। এর মধ্যে চারটি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কম, ইংরেজিতে অকৃতকার্যের হার বেশি, আইসিটি বিষয়ে খারাপ ফল, বন্যার কারণে সিলেট বোর্ডে কঠিন বিষয়ে অটোপাস এবং ফলাফলে সাবজেক্ট ম্যাপিং পদ্ধতি প্রয়োগ করায় এ পার্থক্য তৈরি হয়েছে। যে কারণে সার্বিক পাসের হার কমেছে, বিপরীতে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রকাশিত ফলাফলে বোর্ডওয়ারি গড় পাসের হারেও ঊর্ধ্বমুখী ও নিম্নমুখিতার ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল, সেগুলোর ফলাফল উচ্চমাধ্যমিকে গড় পাসের হারে বড় রকমের প্রভাব পড়ে না। উচ্চমাধ্যমিক পাসের হারটি মূলত নির্ভর করে ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ওপর। কিন্তু এবার এই দুটি বিষয়ের পরীক্ষা হয়েছিল। ফলে গড় পাসের হারটি স্বাভাবিক সময়ের মতো হয়েছে।

সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের কারণে জিপিএ-৫ এ উল্লম্ফন

গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৯২ হাজার ৫৯৫ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ বেড়েছে ৫৩ হাজার ৩১৬ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিষয় ম্যাপিংয়ের কারণে জিপিএ ৫ এর এতো উল্লম্ফন হয়েছে। এ বছর ৮টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ৬ বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল হয়েছে। সিলেট বোর্ডে হয়েছে মাত্র দুই বিষয়ের পরীক্ষা। অর্থাৎ তারা ১১ বিষয়েই পরীক্ষা দেয়নি। আর মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীদেরও ৪ থেকে ৬ বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হয়নি। বাতিল হওয়া পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া হয়েছে এসএসসির বিষয় ম্যাপিং করে। এতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থ, রসায়ন বা উচ্চতর গণিতের মতো বিষয়ের পরীক্ষা না হওয়ায় জিপিএ ৫ বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর যারা এইচএসসি ও সমমানে উত্তীর্ণ হয়েছে তারা ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এই শিক্ষার্থীরা করোনাকালীন নবম-দশম শ্রেণিতে পড়ায় ওই বছর সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে প্রশ্নের একাধিক সুযোগ রেখে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ফলে তাদের ফল ভালো ছিল। আর ওইসব বিষয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিং হওয়ায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে।

জিপিএ ৫ বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে সাবজেক্ট ম্যাপিং কাজ করেছে বলে মনে করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভাপতি তপন কুমার সরকার। তিনি বলেন, এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে যে শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন, তিনি হয়ত উচ্চমাধ্যমিকে মানবিকে পড়েছেন। ফলে এসএসসির বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর নম্বর এইচএসসিতে এসে মানবিকের বিষয়গুলোর বিপরীতে যোগ হয়েছে। এভাবে বিভাগ পরিবর্তনের কারণে জিপিএ ৫ বেড়েছে।

যশোর ও ময়মনসিংহে খারাপ ফল

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এইচএসসিতে এবার পাসের হারে সবার নিচে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। প্রায় একই রকম পাসের হার যশোর বোর্ডেও। কাছাকাছি অবস্থানে চট্টগ্রাম বোর্ডও। অন্য বোর্ডগুলোর তুলনায় এ তিনটি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার তুলনামূলক অনেক কম, যার প্রভাব পড়েছে সার্বিক গড় পাসের হারে। মূলত ইংরেজিতে বেশি ফেল করায় এ দুটি বোর্ডে ফল বিপর্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ২২ শতাংশ। আর যশোর বোর্ডে ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। দুই বোর্ডে যথাক্রমে ৩৬ দশমিক ৭৮ এবং ৩৫ দশমিক ৭১ শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন। তাছাড়া চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায়ও তুলনামূলক ফল খারাপ। বোর্ড দুটিতে যথাক্রমে পাসের হার ৭০ দশমিক ৩২ শতাংশ ও ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ খারাপ ফলের নেপথ্যে ইংরেজি, আইসিটি বিষয়।

সিলেট বোর্ডে রেকর্ড পাস, আর্শীবাদ হয়েছে বন্যা

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার অটোপাসে সিলেট বোর্ডে চমকপ্রদ ফলাফল এসেছে। যার নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে বন্যা পরিস্থিতি। বন্যার কারণে এ বোর্ডে পরীক্ষা শুরু হয় দেরিতে। বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়। ৯ জুলাই থেকে আইসিটি বিষয়ের মাধ্যমে সিলেট বোর্ডে পরীক্ষা শুরু হয়। পরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় সিলেটের পরীক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষায় বসতে হয়নি। বিগত এসএসসি পরীক্ষায় তারা বাংলা ও ইংরেজিতে যে নম্বর পেয়েছিল, সেটাই এইচএসসিতে ম্যাপিং করে ফলাফলে যুক্ত করা হয়েছে। এ দুটি বিষয়ে সিলেটে পাসের হার শতভাগ। অর্থাৎ এটি অন্যতম নিয়ামক। আর অনুষ্ঠিত বাকি ৪টি বিষয়ে তুলনামূলক ভালো ফল করায় বোর্ডটি এবার সবার শীর্ষে রয়েছে।

এ বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জাকির আহমদ জানিয়েছেন, ইংরেজি ও বাংলা পরীক্ষা না হওয়ায় বেশ সুবিধা পেয়েছে সিলেটের শিক্ষার্থীরা। ইংরেজিতে অনেক সময় ছাত্র-ছাত্রীরা খারাপ করে। সেদিক দিয়ে ওই পরীক্ষাটা না হওয়ায় পাসের হার কিছুটা বেশি।

যেভাবে হয়েছে বিষয় ম্যাপিং

সংকটকালীন সময়ে সাধারণ বিষয় ম্যাপিং করা হয়। এর আগে করোনাকালে পরীক্ষা নিতে না পারায় কিংবা কম বিষয়ে পরীক্ষা নিতে গিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য কোন পরীক্ষার কোন বিষয়ের নম্বর যুক্ত হবে, সে বিষয়ে একটি নীতিমালাও আছে। এবার যেসব বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি, সেগুলোর ফলাফল প্রকাশ করা হয় এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয় ম্যাপিং করে। এ প্রক্রিয়ায় একজন পরীক্ষার্থী এসএসসিতে একটি বিষয়ে যত নম্বর পেয়েছিলেন, এইচএসসিতে সেই বিষয় থাকলে তাতে এসএসসিতে প্রাপ্ত পুরো নম্বর বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বিষয়ে ভিন্নতা থাকলে বিষয় ম্যাপিংয়ের নীতিমালা অনুযায়ী নম্বর বিবেচনা করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যেমন এসএসসিতে যে পরীক্ষার্থী বিজ্ঞানে পড়েছিলেন, এইচএসসিতে হয়ত তিনি ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিক শাখায় পড়েছেন। সে ক্ষেত্রে এসএসসিতে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর প্রাপ্ত নম্বর পরীক্ষার্থীর এইচএসসির ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিকের নৈর্বাচনিক বিষয়ের নম্বর হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

স্মার্ট শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আস্থায় ক্যাম্পাস ৩৬৫

news image

রোজা ও ঈদের ছুটিতে কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ

news image

স্বাধীনতার মালিক কে?(৪৭ থেকে ৭১, ৭১ থেকে ২৪)

news image

মাদকমুক্ত সমাজের স্বপ্নে তরুণরা

news image

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন কাঠামো ও নম্বর বণ্টনে নতুন নিয়ম

news image

শাপলা চত্বরের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে: শিক্ষা উপদেষ্টা

news image

স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের এমপিও আবেদন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

news image

ইসলামী বইমেলায় বাড়ছে পাঠকদের ভিড়

news image

পিআর নিয়ে গণভোট করা যেতে পারে: জাকসু ভিপি

news image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ‘পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন’ কর্মসূচি স্থগিত, কর্মবিরতি চলবে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের

news image

২৫ তারিখেই রাকসু নির্বাচন চান স্বতন্ত্র প্রার্থীরা

news image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডাকাতের গ্রাম’ থেকে মানুষের জনপদ হয়ে উঠছে: মির্জা গালিব

news image

‘জবাবদিহিতায় ব্যর্থ হলে পুনরায় ডাকসু নির্বাচন আদায় করব’

news image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং নিষিদ্ধ

news image

প্রাথমিকে ফের বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক

news image

আমির হামজাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে: ঢাবি ছাত্রদল

news image

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কবে?

news image

জাকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসের কার বাড়ি কোথায়

news image

যে কারণে জাকসুতে ছাত্রদলের বিপর্যয়

news image

রোকেয়া হল থেকে একমাত্র ভোট পেলেন রাকিবুল, তাকেই বিয়ে করতে চান...

news image

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ডাকসুর প্রথম সভা

news image

বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্ট ফোরামের নতুন কমিটি গঠন

news image

জুলাইযোদ্ধা সেই ফাইয়াজের বড় ভাই জাকসুর জিএস

news image

জাকসুর ফল ঘোষণার পূর্বে হাসিনার বিচার চেয়ে স্লোগান

news image

জাকসু নির্বাচনের ফল প্রকাশ শুরু

news image

এগিয়ে এলো জাকসুর ফল ঘোষণার সময়

news image

জাকসু নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য স্নিগ্ধার পদত্যাগ

news image

শেষ হলো জাকসুর ভোট গণনা

news image

রোববার বন্ধ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

news image

অবশেষে সন্ধ্যা সাতটায় জাকসুর ফল ঘোষণা