বৃহস্পতিবার ১৫ জানু ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
লাইফস্টাইল

বিশাখাপত্তনমে কয়েকদিন

মোছাঃ খাদিজা আক্তার ২০ নভেম্বার ২০২৫ ১২:৩০ পি.এম

বিশাখাপত্তনমে কয়েকদিন ছবি: সংগৃহীত

ঘুম ভাঙ্গল সকাল প্রায় পৌনে ছয়টার সময়। ট্রেনের জানালা দিয়েই দেখতে পাচ্ছিলাম সকালের নরম আলোয় চোখজুড়ানো ছোট ছোট পাহাড়। হাওড়া-এর্নাকুলাম সুবিধা স্পেশাল এ চেপে বসেছিলাম কাল বিকেল পাঁচটার সময়। উদ্দেশ্য বিশাখাপতনম। সাড়ে ছয়টার সময় ট্রেন পৌঁছানোর কথা। তাড়াতাড়ি উঠে রেডি হয়ে নিলাম। ঠিক ছটা চল্লিশ নাগাদ নেমে পড়লাম ভাইজাগ ষ্টেশনে। আমরা মোট সাতজন।

        আগে থেকেই বুকিং ছিল অন্ধ্রপ্রদেশ টুরিসম এর হারিথা বিচ রিসর্টে। এক কাপ করে চা খেয়ে স্টেশন থেকে অটোরিকশ নিয়ে পাড়ি দিলাম হোটেল এর উদ্দেশ্যে। সুযোগ বুঝে ভাল দাঁও হাঁকিয়ে নিল রিকশওয়ালা। কুড়ি মিনিটের পথ যেতে দর চেয়ে বসল চারশ টাকা। শেষ পর্য্যন্ত সাড়ে তিনশ টাকায় রফা হল। আধঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম রুসিকোণ্ডা বিচের ধারে অবস্থিত বিশাল হোটেলটিতে।

        কিন্তু বিপত্তি দিয়ে শুরু। অটো চলতে শুরু করার পর দেখা গেল বাবা মোবাইল ফেলে এসেছে ট্রেইন এ। আবার অটো নিয়ে স্টেশন ফিরে দৌড়াতে দৌড়াতে গিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে মোবাইল নিয়ে আসা হল। ভাগ্যিস ট্রেন সেদিন ভাইজাগে লেট করেছিল ছাড়তে। তারপর পৌঁছালাম হোটেলে।

        অন্ধ্রপ্রদেশের অন্যতম বিখ্যাত রুসিকোণ্ডা বিচের পাশেই অনুচ্চ পাহাড়টির উপর অবস্থিত এই হোটেল। প্রতিটা ঘর সমুদ্রমুখী এবং প্রত্যেকটা ঘরের সঙ্গেই সংলগ্ন বারান্দা। তাই ঘরে বসেই উপভোগ করা যায় সমুদ্র এবং অনতিদূরে অবস্থিত পাহাড়ের সৌন্দর্য।

        পুজার সময়। হোটেলে ভিড় বেশি। লোকজন আসছে, চেক ইন করছে আবার অনেকে এখানকার পাট চুকিয়ে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছে। রিসেপসনের ভদ্রলোক বেশ ব্যস্ত। আমাদের কাগজ দেখে গম্ভীরভাবে জানিয়ে দিলেন অপেক্ষা করতে হবে। তিনটে ঘর এই মুহুর্তে খালি নেই। ঘর খালি হলে পরিস্কার করে দেওয়া হবে। তাই লবিতেই বসে থাকতে হল প্রায় তিন ঘণ্টা। এই ফাঁকে প্রাতরাশ সেরে নিলাম হোটেলের রেস্তোরায়। তারপর ঘর মিলতেই চান করে পরিষ্কার হয়ে রাত্রের ট্রেন জার্নির ক্লান্তি দুরে করে নিলাম। বাকিরা হোটেলে বিশ্রাম নিলেও নেমে গেলাম রুসিকোণ্ডা বিচে। অক্টোবর মাস কিন্তু রোদের তাপ ভাল, সঙ্গে সমুদ্রের গরম হাওয়া। একটা প্যাচপেচে গরম আবহাওয়া। তাই বিচে লোক খুব কম।  

        একদিকে সমুদ্র আর তিনদিকে পাহাড় ঘেরা এই বিচের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। যদিও বিচের আয়তন খুব  ছোট। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানলাম ২০১২ সালের হুদহুদ ঝড়ে বিচটি বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারপর এখনো সেভাবে গড়ে ওঠেনি । তার নমুনা দেখলাম বেশ কিছু। মাথা মুড়ে যাওয়া কিছু নারকেল গাছ, গোড়াসুদ্ধ উপড়ে পড়ে থাকা বিশালাকার ল্যাম্পপোস্ট তার সাক্ষ্য দিচ্ছে।

বেশ কিছু দোকান এই দুপুরের গরমেও খোলা ছিল। তবে দোকানগুলোতে নতুন কিছু দেখলাম না। বাকি সব বিচের দোকানে যে সমস্ত জিনিস পাওয়া যায়, এখানেও সেই একই জিনিস - ঝিনুক অথবা কাঠ দিয়ে তৈরি ঘর সাজানোর জিনিস, কলম, কলমদানি এইসব। দাম স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি। বিক্রেতারা সমাজের প্রান্তিক শ্রেনী থেকে আসা কিছু লোক। তবে এখানকার ঝালমুড়ি খুব সুস্বাদু। ঝালমুড়ির সঙ্গে এখানে সব জায়গায় কাঁচা আম কুচি কুচি করে কেটে দেওয়ায় ঝালমুড়ির স্বাদটা বেশ অন্যরকম লাগছিল।


        কিছুক্ষণ বিচে কাটিয়ে ফিরে এলাম হোটেল এ। এবার মধ্যান্নভোজের পালা। ভাত, ডাল, আলু ভাজা, সবজী আর ভেটকি মাছের তরকারি দিয়ে জমিয়ে লাঞ্চ করে একটা ছোট্ট ঘুম দিয়ে নিলাম পাহাড়ের কোলে।

        বিকেলে আবার নেমে এলাম বিচে। রোদের তাপ কমে গেছে, সঙ্গে কমেছে গরমও। বিচে বেড়েছে মানুষের ভিড়। পর্যটকদের সঙ্গে দেখলাম প্রচুর স্থানীয় মানুষও এসেছেন বিকেলে বিচ উপভোগ করতে। পর্যটকদের অধিকাংশই বাঙালি। এছাড়া আছে অন্ধ্রপ্রদেশের অন্যান্য অঞ্চলের প্রচুর লোক। অত্যুৎসাহি অনেকে এখনো স্নান করছেন বিচে। ছোট নৌকা ভাড়া করে সমুদ্রবিহারে বেরিয়েছে অনেকে।

        প্রচুর খাওয়ার দোকান, চায়ের দোকান খুলে গেছে। ভিড় বেশি চায়ের দোকানগুলোতেই। অন্যান্য দোকানগুলোতেও ভিড় বেড়েছে। তবে এখানে সমুদ্রের ধারে বসে উপভোগ করার উপায় সেরকম নেই। হুদহুদ ঝড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার পর বিচ যেমন এখনও গড়ে ওঠেনি, তেমনই নেই বসার উপযুক্ত ব্যবস্থা। আমাদের মন্দারমনিতে যেমন হোটেলে লাউঞ্জের ব্যবস্থা থাকে বা দীঘাতে যেরকম সুন্দর বসার ব্যবস্থা আছে সমুদ্র উপভোগ করার জন্য, সেরকম কোন ব্যবস্থা এখানে একদম নেই। যাই হোক, সমুদ্রের ঢেউ দেখে আর টুকটাক চা, চিপস, ঝালমুড়ি খেয়ে কাটিয়ে দিলাম ঘণ্টা দুয়েক। অন্ধকার হতেই উঠে পড়লাম। বিচের খুব অল্প অংশেই দেখলাম আলো আছে। বেশির ভাগ এলাকা সন্ধ্যে হতে ডুবে যায় অন্ধকারে। তাই সন্ধ্যে নামতেই লোকজন ফিরে যায় বিচ থেকে। আমরাও উঠে পড়লাম বিচ থেকে।

         হোটেলে ফিরে দেখে আদিবাসী নাচের প্রস্তুতি চলছে। জানতে পারলাম প্রতি রবিবার, পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য সন্ধ্যাবেলায় এখানে আদিবাসী নাচের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। আট জন আদিবাসী মহিলা হলুদ শাড়ি  পড়ে, সঙ্গে ঢোল, মাদল, বাঁশী নিয়ে কয়েকজন পুরুষ। ঢোল, বাঁশির তালে তালে নাচ দেখতে খারাপ লাগছিল না। তবে আদিবাসী নাচের অন্যতম আকর্ষন তাদের নিজস্ব সঙ্গীতের সঙ্গে কোমর দুলিয়ে নাচ। কিন্তু এখানে গানের ব্যবস্থা না থাকায় একটু যেন জোলো হয়ে গেল পুরো অনুষ্ঠানটি। বেড়াতে আসা অনেক মহিলাও তাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করল।

        দেখতে দেখতে প্রায় সাড়ে আটটা বেজে গেল। আর দেরি না করে ডিনার সেরে নিলাম হোটেলেই। তারপর ঘর। বারান্দায় কিছুক্ষণ বসে রাতের অন্ধকার সমুদ্রের গর্জন শোনা। তারপর একসময় ঘুমিয়ে পড়া, সকালে উঠে সূর্যোদয় দেখতে হবে এই আশা নিয়ে।

        প্রত্যাশামতোই সকালে উঠতে পারিনি। তাই সূর্যোদয় দেখারও কোন গল্প ছিল না। ছিল ব্রেকফাস্ট করে বেরোনোর তাড়া। এই হোটেলে শুধুমাত্র একদিনের জন্য বুকিং পাওয়া গেছিল। তাই আজ হোটেল ছেড়ে অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যটন বিভাগেরই আর একটি হোটেল যাত্রিনিবাসে ওঠার কথা। পরের দুদিন ওখানেই আড্ডা।

        নটা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম গোপীজির ইনোভাতে। হোটেলের মাধ্যমেই গোপীজীর সঙ্গে কথা এবং চুক্তি দিনপ্রতি তিনহাজার টাকা। গোপীজী হাসিখুশি কম কথার মানুষ। মুখে সব সময় হাসি লেগে আছে, কিন্তু কথা বলেন খুব কম। যেটুকু বলেন সেটুকুও তেলেগু অথবা ভাংগা ইংরাজিতে। হিন্দি একদম নিষিদ্ধ গোপীজীর মুখে।

        প্রথমে গেলাম পাহাড়ের উপর অবস্থিত রামা নাইডু ফ্লিম স্টুডিও। বিখ্যাত তেলেগু প্রযোজক ডাজ্ঞুবতি রামানাইডু এটার প্রতিষ্ঠা করেন। দাদাসাহেব ফালকে এবং পদ্মভূষণ প্রাপ্ত এই প্রযোজকের ভারতীয় সিনেমা জগতে অবদান অসামান্য। প্রায় পনেরোটি ভারতীয় ভাষায় দেড়শোর বেশি সিনেমা তিনি প্রযোজনা করেছেন। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী পৃথীবিতে সবথেকে বেশি সিনেমা প্রযোজনা করার বিশ্বরেকর্ডটিও ইনার দখলে। স্টুডিওর মধ্যে দেখলাম সিনেমার প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য নকল বাড়িঘর, বাংলো, পুলিশ থানা, মন্দির ইত্যাদি। তাছাড়া পাহাড়ের উপর থেকে রুশিকোণ্ডা বিচ এবং সংলগ্ন এলাকার দৃশ্যটিও চমৎকার লাগল।

        কিছুক্ষণ সেখানে কাটিয়ে রওনা দিলাম পরের গন্ত্যব থোৎলাকোণ্ডা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২৮ মিটার উপরে প্রায় দশ একর জায়গা নিয়ে এটি অবস্থিত। সাতবাহনা রাজাদের সময় এই অঞ্চলটি বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা এবং প্রচারে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিল। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে এদের ব্যবসা বাণিজ্য চলত, তার প্রমাণ এখানে পাওয়া রোমান মুদ্রা থেকে পাওয়া যায়। এখান থেকে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা ধর্ম প্রচারে শ্রীলংকা এবং অন্যান্য দেশে গেছিলেন একসময়। এখানে আবিষ্কৃত কমপ্লেক্সটির মধ্যে বৌদ্ধ বিহার, জলের ট্যাঙ্ক এবং নানান স্তূপ দেখা যায়। ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি অতি মনোরম।

        এবার ভিমলী বিচ। আগের দিন হোটেলে থাকতেই শুনেছিলাম এই বিচের কথা। বিশাখাপতনম থেকে প্রায় আটচল্লিশ কিলোমিটার দুরে ছোট্ট গ্রাম ভীমানিপতনম। মহাভারতের দ্বিতীয় পাণ্ডব ভীমের নামে থেকে জায়গাটির নাম। ভীম কোন একসময় এই গ্রামে নাকি কিছুদিন ছিলেন। গ্রামটিকে সংক্ষেপে ভিমলি নামেই বেশি পরিচিত। এখানকার সমুদ্রতীর বেশ নিরালা এবং নির্জন। তবে ঢেউ তুলনামূলক বেশি। এখানকার বিচে সেরকম কাউকে স্নান করতে বা বসে থাকতে দেখলাম না। সাগরতটে দেখলাম বেশ কয়েকজন দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে। অদূরেই রয়েছে ১৮২৮ সালে ডাচ প্রতিষ্ঠিত লাইটহাউস। ১৭ শতকের দিকে পুরো বিশাখাপতনম ডাচ উপনিবেশ ছিল এবং ভিমলি একটি ডাচ বন্দরনগরী ছিল। পরিত্যাক্ত লাইটহাউসটি এখনো তারই সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

        পেটে খিদের ডাক পড়ায় এবার ফিরে চললাম হোটেলের দিকে। বিচ রোডের উপর অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যটন বিভাগের হোটেল যাত্রীনিবাসে উঠলাম। এখানেই সেরে নিলাম দুপুরের খাবার। তারপর কিছুক্ষণ বিশ্রাম। বিকেলে চারটের দিকে আবার বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে কৈলাস গিরি বা কৈলাস পাহাড়। বিচ রোডের উপর সমতল থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ ফিট উঁচু পাহাড়। পাহাড়ের কোল থেকে রোপওয়ে চেপে পৌঁছলাম পাহাড়ের চূড়ায়। প্রায় একশ একর জায়গা নিয়ে পাহাড়ের মাথায় বিশাল এক প্রমোদ উদ্যান। প্রথমেই নজর কাড়ল বিশালাকার শিব-পার্বতীর যুগল মূর্তি। এরপর টিকিট কেটে চেপে বসলাম টয়ট্রেনে। পাহাড়ের চারদিকে ধীরে ধীরে একপাক ঘুরপাক খেতে সময় লাগল প্রায় পনের মিনিট। ট্রেনের ভিতর থেকে বিশাখাপতনম শহরটিকে বিভিন্ন ভাবে দেখার এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা হল। পাহাড়ের উপর থেকে তিনদিকে নীল সমুদ্রঘেরা শহরটিকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল। এখানে বাকি দ্রষ্টব্য জিনিসের মধ্যে আছে বিশাল ফ্লোরাল ক্লক এবং টাইটানিক ভিউ পয়েন্ট। সময়াভাবে যদিও আমরা এগুলো ভালভাবে দেখতে পারিনি।

        নেমে এলাম পাহাড় থেকে। তবে এবার আর রোপওয়ে নয়। গাড়ি করে। পরের গন্ত্যব্য রামকৃষ্ণ বিচ। রওনা দিলাম। রামকৃষ্ণ বিচের পাশে গাড়ি পার্ক করে প্রথমে গেলাম বিচের ধারে অবস্থিত কালীমন্দির।১৯৮৪ সালে বাদল ব্যানার্জীর উদ্যোগে প্রতষ্ঠিত হয় কালীমন্দিরটি। তারপর গেলাম মৎস্যদর্শিনী অ্যাকুয়ারিইয়াম। অ্যাকুয়ারিইয়ামটি খুব অসাধারণ কিছু নয়। ভারতের আর পাঁচটা অ্যাকুয়ারিইয়ামে যে ধরনের মাছ থাকে এখানেও তাই, নতুন কিছু পেলাম না।
        অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত রামকৃষ্ণ বিচ। পাহাড়-সমুদ্রের অসামান্য যুগলবন্দী উপভোগ করা যায় এই বিচ থেকে। প্রচুর পর্যটকের সমারোহে সবসময় জমজমাট থাকে বিচটি। স্থানীয়লোকজনেরও খুব প্রিয় জায়গা এটি, সেটি এখানকার জনসমাগম দেখলেই বোঝা যায়। তবে বিচটি আরও পরিষ্কার হলে আরও আকর্ষনীয় হত। প্রায় ঘণ্টাখানেক বিচে কাটিয়ে উঠে পড়লাম আটটা নাগাদ। ফিরে চললাম হোটেল।

          আজ তৃতীয় দিন । গোপীজীর সংগে কথা বলে আগে থেকেই প্ল্যান করা ছিল আজ কোথায় কোথায় যাবো। আজকের তালিকায় ছিল বিশাখাপত্তনম চিড়িয়াখানা, বিশাখা মিউজিয়াম, ইয়ারাদা মিউজিয়াম এবং কুরসুরা সাবমেরিন মিউজিয়াম।

        প্রথমে রওনা দিলাম বিশাখাপত্তনম চিড়িয়াখানা বা ইন্দিরা গান্ধী জুওলজিকাল পার্ক। প্রায় সাড়ে ছয়শ একর জায়গা নিয়ে কাম্বালাকোণ্ডা সংরক্ষিত অরণ্যের মধ্যে তৈরি এই পার্ক ভারতের অন্যতম বৃহৎ চিড়িয়াখানা। আশিটি প্রজাতির প্রায় সাড়ে আটশো প্রাণী এই চিড়িয়াখানায় দেখতে পাওয়া যায়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নামাঙ্কিত এই উদ্যানটি ১৯৭৭ সালে সাধারণের দেখার জন্য খুলে দেওয়া হয়। সাদা বাঘ, হায়না এবং হিমালয়ান কালো ভালুক এই চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষন।
        কিছুক্ষন চিড়িয়াখানায় কাটিয়ে গেলাম বিচ রোডের উপর অবস্থিত বিশাখা মিউজিয়াম। একসময়ের ওলন্দাজ উপনিবেশ বিশাখাপতনমে এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ওলন্দাজ স্মৃতি। তার অন্যতম হল এই বিশাখা মিউজিয়াম। এখন যে জায়গায় যাদুঘরটি গড়ে উঠেছে তা ছিল এক ডাচ বাংলো। ১৯৮০ সালে Visakhapatnam Urban Development Authority(VUDA) বাংলোটি অধিগ্রহণ করে তৈরি করে বিশাখা মিউজিয়াম। এখানে ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাব, ঘরের মেঝে এবং দেওয়ালে দেখা যায় ডাচ রীতির ছোঁয়া। যাদুঘরে রক্ষিত বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তির তৈলচিত্র, মূর্তি, বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র, তরবারি ইত্যাদি। তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য তিনটি হল - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানী সেনাদের ফেলা প্রায় ২৫০ কেজি ওজনের একটি বোমা, যা কোন কারণে ফাটেনি, সম্পূর্ন ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম যুদ্ধ জাহাজ এস এস ঊষার উদ্বোধনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর নারকেল ভাঙ্গার ছবি এবং ভিজিয়ানাগ্রামের মহারাজাকে দান করা ডিউক অব এডিনবরার একটি তলোয়ার।

        দেখতে দেখতে দুপুরের খাওয়ার সময়। ড্রাইভার গোপীজীর পরামর্শে গেলাম স্টেশনের কাছে বাঙ্গালী হোটেল নিমন্ত্রণ এ।

        তারপর আবার যাত্রা শুরু। এবার গন্তব্য ইয়ারাদা বিচ এবং ডলফিন নোজ। বিশাখাপতনম শহর থেকে প্রায় পনের কিলোমিটার দক্ষিণে ডলফিন পাহাড় পেরিয়ে এক অনন্য সাধারন বালুতট। প্রচুর সবুজের সমারোহ বিচের আশেপাশে। সমুদ্রতল এখানে অপেক্ষাকৃত পাথুরে। তাই ঢেউ এর স্রোতও তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি বাকি বিচগুলোর তুলনায়। বিচের আগে আছে এক বেসরকারি কোম্পানির তৈরি একটি ছোট্ট কিন্তু সুন্দর পার্ক। পিকনিকের জন্য এই পার্কটি একটি আদর্শ জায়গা। বেশ কয়েকটি দল এসেছে দেখলাম পিকনিক করতে।

        ইয়ারাদা বিচ থেকে ফেরার পথে গেলাম ডলফিন পাহাড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশ মিটার উঁচু এই পাহাড়। অদ্ভুত গড়নের জন্য পাহাড়টিকে দুর থেকে দেখতে লাগে অনেকটা ডলফিনের নাকের মত, তাই এটি ডলফিন নোজ নামেই পরিচিত। পাহাড়ের উপর উপতক্যার মত বেশ কিছু সমতল জায়গা দেখা যায়, যেখানে নেভি অফিসারদের আবাসন, বাংলো, থানা ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। জায়গাটির প্রাকৃতিক দৃশ্য অতি মনোরম। পাহাড়ের উপর দিয়ে পৌঁছলাম লাইট হাউসএ। রাজ্যের সবথেকে উঁচু এই লাইটহাউস থেকে প্রায় পঁয়ষট্টি কিলোমিটার দুর অবধি সমুদ্রে জাহাজদের আলো দেখানো যায়। লাইটহাউসের উপর তৈরি ওয়াচ টাওয়ারে ওঠা যায় পাঁচ টাকা দিয়ে টিকিট কিনে। ওয়াচ টাওয়ার থেকে পুরো বিশাখাপত্তনম শহরটিকে একসঙ্গে দেখে নেওয়া যায়। বঙ্গোপসাগরেরও এক বিস্তীর্ন এলাকা এখান থেকে দেখা যায়। সমুদ্র, পাহাড় এবং জঙ্গলের একসঙ্গে ছবি নেওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

        নেমে এলাম পাহাড় থেকে। আবার বিচ রোড। এবার মৎস্যবন্দর। শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দুরে বঙ্গোপসাগরের উপর বন্দরটি তৈরি হয় ১৯৭৮ সালে। মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা দিনের শেষে মাছ নিয়ে এই বন্দরেই নোঙ্গর করে। ভিড় করে মাছ ব্যবসায়ীরাও। চলে মাছের পাইকারি বেচাকেনা। এছাড়াও এখানে আছে নৌকা করে সমুদ্রবিহারের ব্যবস্থা। শুকনো মাছ বা পশ্চিমবঙ্গে যাকে শুকটি বলে, তারও অন্যতম বড় ব্যবসাকেন্দ্র এই মৎস্য বন্দর।

        এখান থেকে গেলাম বিশাখাপতনম এর অন্যতম বড় আকর্ষন সাবমেরিন মিউজিয়াম। রামকৃষ্ণ বিচের পাশেই ভারতের প্রথম ডুবোজাহাজ 'কুরসুরা'কে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছে সাবমেরিন মিউজিয়ামটি। রাশিয়া নির্মিত এই ডুবোজাহাজটি ১৯৬৯ থেকে ২০০১ সাল পর্য্যন্ত ভারতীয় জলসেনার কাজে নিয়মিত ব্যবহৃত হত। ২০০২ সালে বাতিল ঘোষণা করার পর, কিছু মেরামতি করে এটিকে মিউজিউম হিসেবে সাধারণের দেখার জন্য খুলে দেওয়া হয়। ১৯৭১ সালের পাকিস্থান যুদ্ধেও এই ডুবোজাহাজটি অংশগ্রহণ করেছিল। ডুবোজাহাজটির দৈর্ঘ ৯১.৩ মিটার, সর্বোচ্চ প্রস্থ ৭.৫ মিটার, সর্বোচ্চ উচ্চতা ৬ মিটার। তিনজন গাইড ডুবোজাহাজের ভিতরের বিভিন্ন অংশের কাজ এবং কৌশল বর্ননা করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন। ডুবোজাহাজের ভিতরে ঢোকার অভিজ্ঞতাটি এক অনন্য সাধারণ। অত অল্প জায়গায় কয়েকজন মানুষ কিভাবে দিনের পর দিন থেকে স্বাভাবিক কাজকর্ম করে যান, ভাবলে অবাক হতে হয়।

        কুরসুরা সাবমেরিন দেখে ফিরে এলাম হোটেলে। ভাইজাগে আজকেই শেষ রাত। কাল পাড়ি দেব অন্ধ্রপ্রদেশের আর এক পর্যটন কেন্দ্র আরাকু ভ্যালিতে। রাত্রিবাস ওখানেই। রাতের খাবার খেয়ে তাই শুয়ে পড়তে হল তাড়াতাড়ি।

        পরিকল্পনা ছিল সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ার। তবু প্রায় দশটা বেজে গেল। লক্ষ্য এবার বোরা গুহা হয়ে আরাকু ভ্যালি। বিশাখাপতনম থেকে প্রায় বিরানব্বই কিলোমিটার দুরে অনন্তগিরি পাহাড়ের উপর অবস্থিত ভারতের দীর্ঘতম গুহা বোরা গুহা প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। সমতল থেকে প্রায় ৭২২ মিটার উঁচুতে ৩০০ মিটার চওড়া, ৪০ মিটার গভীর। ব্রিটিশ জিওলজিস্ট উইলিয়াম কিং এটি আবিষ্কার করেন ১৮০৭ সালে। মিলিয়ন বছরের প্রাচীন চুনাপাথর মিশ্রিত জল পড়ে তৈরি হয়েছে স্ট্যালাগটাইট অর্থাৎ চুনাপাথরের ঝুলন্ত দণ্ড। স্ট্যালাগটাইট জল ঝরে আবার হয়েছে স্ট্যালাগমাইট বা চুনাপাথরের স্তম্ভ বোরা। বোরা শব্দের অর্থ ফাঁকা। আলোআঁধারিতে গুহার মধ্যে রহস্যময় এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে থাকে সবসময় এবং গুহা পরিভ্রমনকালে এক গা ছমছমে অনুভূতির সৃষ্টি হয়। প্রায় ১২০ ধাপ সিড়ি ভেঙ্গে গুহার নিচে নেমে শেষ পর্য্যন্ত ঘুরে আসতে সময় লাগল প্রায় চল্লিশ মিনিট।

        আরও কিছুক্ষণ বোরা গুহাতে কাটিয়ে এবার চললাম আরাকু উপত্যকা। বোরা গুহা থেকে আরাকুর দূরত্ব প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য থামলাম কফি গার্ডেনে। বিভিন্ন ধরনের কফির মধ্যে জনপ্রিয় অ্যারাবিকা এবং রোবাস্তা কফির অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্র নীলগিরি পর্বতমালার অন্তর্গত এই অনন্তগিরি পাহাড়। কিছুক্ষণ এখানে কাটিয়ে, এক কাপ করে কফি খেয়ে, কিছু কফি বিনস কিনে আবার চেপে বসলাম গাড়িতে।

        যখন আরাকু ভ্যালি পৌছাঁলাম ঘড়ি তখন সন্ধ্যা সাড়ে ছটার কাঁটা ছুঁয়েছে। উঠলাম শহর থেকে একটু বাইরে হোটেল ভেলাঙ্গিনীতে। বাইরে অন্ধকার, তার উপর আবার ঠাণ্ডা। তাই হোটেলে বসে গল্প গুজব করেই আর চা খেয়ে কাটিয়ে দিলাম সন্ধ্যাটা। বিশেষ কিছু করার ছিল না, তাই একটু পরেই রাত্রের খাওয়া সেরে নিলাম কাছেই বসুন্ধরা হোটেলে। তারপর বিশ্রাম পরদিনের জন্য।

        উঠে পড়লাম সকাল সকাল। আগের দিন আরাকু আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেছিল, তাই জায়গাটি সেভাবে দেখা হয়ে ওঠে নি। হাতমুখ ধুয়ে তাই বেরিয়ে পড়লাম হোটেলের পাশের চা দোকানে। প্রথমেই চোখে পড়ল বিস্তৃত অনুচ্চ পাহাড়ের মত এক টিলা। ওড়িয়া ভাষায় আরাকু শব্দের অর্থ লালমাটি। পাঁচটি টিলায় ঘেরা, প্রায় ১২০০ মিটার উঁচু লালমাটির এই ছোট্ট উপত্যকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অতুলনীয়। সিলভার ওক, পাইন ও ইউক্যালিপটাস দিয়ে ঘেরা উপত্যকাটির পরিবেশ অতি মনোরম ও স্নিগ্ধ । অক্টোবর মাসের হাওয়াতেই শীতের আমেজ। আরাকুর আর এক বৈশিষ্ট্য পাহাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছবির মত ছোট্ট ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম। প্রায় কুড়ি রকম আদিবাসী প্রজাতির বাস এই পাহাড়ি উপত্যকায়।

        যায় হোক, প্রাতরাশ সেরে আবার বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে পদমপূরম গার্ডেন। বিচিত্র ধরনের গাছ ও ফুলের সমাবেশ দেখা যায় এই বাগানে। বর্তমানে গাছ ও ফুলের সমাবেশে এটি একটি মনোরম উদ্যান হলেও এর এক গৌরবময় ইতিহাস আছে। বাগানটি তৈরি করা হয়েছিল চল্লিশের দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে। উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধরত সৈনিকদের জন্য সব্জী চাষ করা। পরে এটিকে রূপান্তর করা হয় একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন এ। দুষ্প্রাপ্য কিছু গাছ এবং বিভিন্ন ধরনের ফুল এখানে দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়া এর ভিতরে আছে একটা গোলাপ ফুলের বাগান, বিভিন্ন রঙের গোলাপের সমারোহে রঙ্গিন হয়ে উঠেছে জায়গাটি। তবে বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণে আরও নজর দেওয়া উচিত কতৃপক্ষের। একটি ভেঙ্গে যাওয়া বাতিল টয়ট্রেন কতৃপক্ষের উদাসীনতার পরিচয় দেয়।

        পরের গন্ত্যব্য আদিবাসী মিউজিয়াম। আরাকু ভ্যালির সবথেকে দ্রষ্টব্য স্থান এই আদিবাসী মিউজিয়াম। যাদুঘরটির বৈশিষ্ট্য হল এটি ভারতের অন্যান্য মিউজিয়ামের মত শুধুমাত্র শুকনো তথ্য সম্বলিত যাদুঘর নয়। বরঞ্চ চেষ্টা করা হয়েছে আদিবাসী সমাজের জীবনযাত্রা, সামাজিক গঠন, বিভিন্ন উৎসব ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিবর্তন ইত্যাদিকে তুলে ধরা। যাদুঘরটি তৈরিও করা হয়েছে মাটি ও অন্যান্য নানা উপকরণ দিয়ে, যাতে ভিতরে ঢুকলে আদিবাসী জীবনের একটা অনুভূতি তৈরি হয়।

        যাদুঘরটিকে মোটামুটিভাবে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। একদিকে আছে তাদের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদির প্রদর্শনী। এখানে অন্যান্য উল্লেখযোগ্য জিনিসের মধ্যে চোখে টানে একটি বড় অয়াম্ফিথিয়েটার। কোন উৎসব বা অনুষ্ঠানে এখানে একযোগ হয়ে নাচ, গান বা নাটক অনুষ্ঠিত হত।

        অন্য বিভাগে আছে আরাকুর বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীর তৈরি সামগ্রীর প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র। কাঠ, বাঁশ, মাটি ও আরও নানা উপকরণের তৈরি জিনিসপত্র নিয়ে তারা এখানে পসরা সাজিয়ে বসে উপস্থিত পর্যটকদের কাছে বিক্রির জন্য। এছাড়া আছে ছোট্ট একটি লেক, যেখানে টিকিট কেটে নৌকাবিহার করা যায়।

        যাদুঘর থেকে বেরিয়ে গেলাম পাশেই অবস্থিত আরাকু কফি হাউস কাম মিউজিয়াম। কফির ইতিহাস সম্বলিত ছোট্ট একটা মিউজিয়াম। এছাড়া এখানে পাওয়া যায় বিভিন্ন স্বাদের কফি ও কফি মেশানো বিভিন্ন চকোলেট। যদিও এখানে প্রাপ্ত কফি ও কফিজাত অন্যান্য দ্রব্যের মান খুব ভাল নয় এবং দামও অত্যন্ত বেশি।

        কিছুক্ষণ এখানে কাটিয়ে এবার বিশাখাপত্তনম ফেরার পালা। বিশাখাপত্তনম থেকে বাড়ি ফেরার ট্রেন রাত সাড়ে আটটা। আরাকু থেকে রওনা দিলাম প্রায় বারোটা নাগাদ। আবার সেই দিগন্তবিস্তৃত পাহাড়ি রাস্তার মধ্য দিয়ে। তবে এবার পাহাড় থেকে নিচে নামা।

        গাড়ি থামল ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ টায়ডাতে। অন্ধ্র প্রদেশ পর্যটন দপ্তরের রিসর্ট Jungle Bells এ দুপুরের খাওয়া সেরে নিলাম। তারপর রওনা দিলাম। ভাইজাগ পৌছালাম প্রায় পাঁচটা নাগাদ। ট্রেনের তখনো অনেক দেরি। চলে গেলাম তাই রামকৃষ্ণ বিচ এ। ঘণ্টাখানেক সেখানে কাটিয়ে এসে উঠলাম স্টেশনে সাতটা নাগাদ। স্টেশনের ক্যান্টিনেই রাত্রের খাওয়া সেরে চেপে বসলাম চেন্নাই-সাঁতরাগাছি সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। গন্ত্যব্য সাঁতরাগাছি হয়ে কোলকাতা।

আরও খবর

news image

বিশাখাপত্তনমে কয়েকদিন

news image

প্রতিদিন ব্ল্যাক কফি খেলে যা ঘটবে

news image

কিডনি সুস্থ রাখার ৫টি সহজ উপায়

news image

ইউরিক অ্যাসিড কমাতে প্রতিদিন খান এই পুষ্টিকর ড্রাই ফ্রুটস

news image

খালি পেটে যেসব খাবার খাওয়া বিপজ্জনক

news image

খালি পেটে অ্যাপল সিডার ভিনেগার খাওয়ার উপকারিতা

news image

অজান্তেই ফুসফুসের ক্ষতি করছে যে অভ্যাসগুলো

news image

অফিস সিনড্রোম কাটাবেন যেভাবে

news image

যে ৩ ধরনের খাবার অতিরিক্ত খেলে কমতে পারে আয়ু

news image

সঠিক জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন কি না বুঝবেন যেভাবে

news image

দাঁড়িয়ে পানি পান করলে যা ঘটে

news image

কখন গোসল করা ঘুম ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

news image

পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বেশি?

news image

প্রতিদিন বই পড়ার যে ৬টি উপকারিতা রয়েছে

news image

চা-য়ে চিনির বিকল্প হতে যে ৫টি জিনিস!

news image

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এড়িয়ে চলবেন যে খাবারগুলো

news image

অতিরিক্ত গ্রিন টি খেলে যা হতে পারে

news image

গাজর খেলে যে গুরুতর রোগগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া যায়

news image

মাত্র ৪ সপ্তাহে চিনি ছাড়লে শরীরে যে পরিবর্তন আসতে পারে

news image

শারদীয় উৎসবের আমেজে ‘মিরা’র আঙিনায় চারদিনব্যাপী মেলা

news image

প্রাকৃতিক মিষ্টি চাইলে খেজুরই সেরা

news image

প্রতিদিন যে কারণে খাবেন 'শসার সালাদ'

news image

সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্ল্যাক কফি খেলে যা হবে!

news image

চিয়া সিডের সঙ্গে যে খাবারগুলো খেলেই বিপদ

news image

যে কারণে খাওয়ার সাথে সাথে পানি পান করে ভুল করছেন

news image

কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে ৪টি সুপার সবজি

news image

সুস্থ থাকতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ জরুরি

news image

স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও কেন হয় হজমের সমস্যা?

news image

প্রতিদিন একটি পেঁপে, স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের চাবিকাঠি

news image

সিলিন্ডার বিস্ফোরণ রোধে সাতটি জরুরি নিয়ম